Home / মিডিয়া নিউজ / প্রতিটি কাজই চ্যালেঞ্জিং, আমি পুরোনো হয়ে গেছি কখনো মনে করি না: বাবু

প্রতিটি কাজই চ্যালেঞ্জিং, আমি পুরোনো হয়ে গেছি কখনো মনে করি না: বাবু

বাংলাদেশের সেরা অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন ফজলুর রহমান বাবু। তিনি অসংখ্য নাটক

এবং সিনেমায় কাজ করেছেন। সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও তার আভিনীত সিনেমা গুলো প্রকাশ

পাচ্ছে। অবশ্যে বর্তমান সময়ে নেটিজনদের মাঝে অনলাইন প্লাটফার্ম গুলোও বেশ জনপ্রিয় হয় উঠেছে।

সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চরকিতে ফজলুর রহমান বাবুর অভিনীত সিনেমা “খাঁচার ভিতর অচিন পাখি” মুক্তি পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেতা নিজেই।

ঢাকা ড্রিম–এর বিশেষ প্রদর্শনী দেখার জন্য বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। গত রাতে চরকিতে মুক্তি পেল তাঁর অভিনীত ছবি খাঁচার ভিতর অচিন পাখি। শিগগিরই আসছে নোনাজলের কাব্য। জানালেন যেভাবে কাটছে ব্যস্ত এই অভিনেতার জীবন।

নিজের নতুন কাজ দেখতে কি এখনো আগের মতো রোমাঞ্চিত হন?

যেকোনো নতুন কাজ, হোক সেটা সিনেমা বা নাটক, দেখতে গেলে সেই শুরুর দিনগুলোর মতো রোমাঞ্চিত বোধ করি। প্রতিটি কাজই আমার কাছে নতুন আর চ্যালেঞ্জিং। নিজেকে নতুন করে দেখি। আমি পুরোনো হয়ে গেছি, সেটা কখনো মনে করি না।

এই যে এত ব্যস্ততা, ক্লান্ত লাগে না?

কাজের প্রেশার থাকেই। তবে আমি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যা করি, আনন্দ নিয়ে করি। যে কাজে আনন্দ পাব না বলে মনে হয়, সেই কাজ করি না। কখনো হয়তো শারীরিকভাবে দুর্বল বোধ করি, কিন্তু মনের দিক থেকে কখনো ক্লান্ত হই না।

‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’র গল্পটা কেমন ছিল?

আমার মনে হয়েছে, এই ছবিটা কেবল অনলাইন নয়, যেকোনো প্ল্যাটফর্মের জন্য অন্য রকম। আমাদের এখানে নতুন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়েছে, গল্প ও কাহিনিনির্ভর, সেই জায়গা থেকে মনে হয় এটা একটা চমৎকার গল্প। সিনেমার যেমন নানা বাঁক থাকে, দ্বন্দ্ব থাকে, গল্পের নানা মোড় থাকে, যেখান থেকে দর্শক আবার নতুন করে আগ্রহী হয়ে ওঠে, গল্পের ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে পড়েন দর্শক—এ রকম একটি ছবি খাঁচার ভিতর অচিন পাখি।

অনলাইনে কাজের অভিজ্ঞতাটা নিশ্চয়ই অন্য রকম। এই অভিজ্ঞতা থেকে অন্য মাধ্যমের নির্মাতাদের কোন বার্তাটা দিতে চাইবেন?

প্রথম থেকেই আমাদের নির্মাতাদের ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা ছিল। শুরুতে নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম, হইচই—এগুলো থেকে একটা কিছু নিতে চেষ্টা করেছিলাম। যেমন থ্রিল, অ্যাডভেঞ্চার, অ্যাকশন, ভায়োলেন্স, সেক্স। ওটিটি মানেই যেন কনটেন্টে এসব থাকতে হবে। আমি কিন্তু সেটা মনে করি না। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে যে কনটেন্টগুলো জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোর মধ্য কিন্তু ও রকম কিছু ছিল না। অনিয়ম, দুর্নীতি, অ্যাডভেঞ্চার ছিল বটে।

এই নতুন সময়ে যাঁদের সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁদের কাছে কী পেয়েছেন, যা ১০ বছর আগে অন্যদের কাছে পাননি?

আসলে প্রতিটি সময়ই তো নতুন। আজ যাঁরা পুরোনো হয়ে গেছেন, তাঁরাও একসময় ভালো ভালো কাজ করেছেন। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের কথাই যদি ধরি, আজ থেকে ১২ বছর আগে মনপুরা বানিয়ে ফেললেন। সাদামাটা একটা গল্পকে এমনভাবে উপস্থাপন করলেন যে দর্শক দারুণভাবে সেটাকে গ্রহণ করলেন। সে রকম সব সময়ই নতুন কেউ না কেউ থাকেন। আজ যারা নতুন, তাদের ব্যতিক্রমী দিকটা হচ্ছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও গল্প বলার ধরন নতুন। তারা নতুন চোখ দিয়ে দেখে। এখনকার নতুন নির্মাতারা গল্প বলার পুরোনো ফরমেট থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক গল্প বলার ধরন রপ্ত করছে বলে মনে হয়েছে।

একজন অভিনেতাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাকে বলে, এখনকার নির্মাতারা কি আপনাকে সেভাবে করছে? আপনি সন্তুষ্ট?

শিল্পীর অতৃপ্তি শেষ হয় না। প্রতিদিনই তার নতুন নতুন সব কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ নিয়েই শিল্পী বেঁচে থাকে। আমি খুব তৃপ্ত সেটা বলব না, ভালো কাজের আকাঙ্ক্ষা আমার এখনো আছে। আবার আমি যে হতাশ, সেটাও বলব না। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ, আমি নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কখনো খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষ, কখনো মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত। নানা কিছু করার চেষ্টা করছি। সেই দিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান। শিল্পী হিসেবে তৃপ্ত হয়ে গেলে তো আগানোর পথ থাকে না। আমি নিরাশ না।

এই মুহূর্তে আপনার কাছে চ্যালেঞ্জ কী?

আমরা আসলে একটা নতুন সময়ে এসে পৌঁছেছি। আগে টেলিভিশনে, মঞ্চে কাজ করতাম, তারপর শুরু করলাম চলচ্চিত্রে। এখন নতুন প্ল্যাটফর্ম। প্রতিদিনই নিজেকে আপডেট করতে হচ্ছে। এটাই আমার কাছে একটা নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রত্যেক শিল্পী ও নির্মাতার তাই করা উচিত।

আপনি কীভাবে নিজেকে আপডেট করেন?

প্রতিনিয়ত সিনেমা দেখি। দেশে–বিদেশে সেসব সিনেমা যাঁরা বানাচ্ছেন, তাঁদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। তাঁদের নিয়ে যেসব লেখালেখি হচ্ছে, সেগুলো পড়ার চেষ্টা করি। সমালোচনাগুলো পড়ার চেষ্টা করি।

ইউটিউবের একটি ভিডিওতে দেখলাম, আপনি একটা পাবলিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছেন। সব সময়ই দেখি, আপনি হাসিমুখে থাকেন। আপনার রাগ নেই?

অবশ্যই রাগ আছে। (হাসতে হাসতে)। আমি যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। অনেকেই বলে, আমি নাকি ঠোঁটকাটা মানুষ। আমার সামনে কোনো অন্যায় বা অনিয়ম হতে দেখলে আমি চুপচাপ বসে থাকি না। আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করি। যাঁরা ওই মুহূর্তে আমাকে দেখেন, তাঁরা ভাবেন, আমি বোধ হয় খুব রাগী মানুষ। কিন্তু আমি সাধারণত হাসিখুশি থাকতেই পছন্দ করি। অনিয়ম বা অনৈতিক কাজ সহ্য করি না। সে যে মাপের মানুষই হোক, আমি নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারি—আপনি কাজটি ঠিক করেননি।

বাড়ির সবাই কেমন আছেন?

কিছুদিন আগে আমি ছাড়া সবাই করোনায় আ/ক্রা/ন্ত হয়েছিল। একজনের এখনো করোনা–পরবর্তী জটিলতা রয়ে গেছে। এমন একটা পেশা, আমার সম্পূর্ণভাবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা সম্ভব হয় না। শত শত মানুষের মধ্যে শুটিং করতে হয়। ভ্যাকসিন নিয়েছি, বাকিটা নিয়তির ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

এই জনপ্রিয় অভিনেতা দীর্ঘ দিন ধরে বিনোদন জগতে কাজ করছেন। অবশ্যে তিনি এই জগতে প্রবেশের পূর্বের তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অগ্রণী ব্যাংকে যোগদানের মধ্যে দিয়ে। তবে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিনোদন জগতকে। তিনি তরা কাজের মধ্যে দিয়ে অর্জন করেছেন ব্যপক সফলতা এবং সম্মাননা। তার রয়েছে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী।

Check Also

সংবাদ পাঠিকাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তাহসান

অভিনেতা, গায়ক তাহসান খান ও অভিনেত্রী মিথিলা ভালোবেসে সুখের সংসার সাজিয়েছিলেন। সেই সংসারের ইতি টানেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.