Home / মিডিয়া নিউজ / সৃজিত শুরু থেকেই আমাকে পছন্দ করতো : বাঁধন

সৃজিত শুরু থেকেই আমাকে পছন্দ করতো : বাঁধন

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বাংলা নাট্যাঙ্গনের

অন্যতম একজন অভিনেত্রী তিনি এছাড়া চলচ্চিত্র জগতে পা রেখেছেন এই গুণী অভিনেত্রী

অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা এবং নজরকাড়া সৌন্দর্য দিয়ে তিনি দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন এবং

একের পর এক নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন সাবলীল দৃশ্যে তাকে দেখা যাচ্ছে এবং এরই মধ্যে

একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি এবং কিছু কাজের অভিনয় করার কথা রয়েছে তার

ঢাকা ছেড়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর থেকে শুরু করে শুটিং শেষে ঢাকায় ফেরা পর্যন্ত যত গল্প আছে সব শুনতে চাইলাম। বাদ সাধলেন বাঁধন। আগে ’কাস্টিং’ নিয়ে কথা বলতে চাইলেন,

’সৃজিতের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল না। তিনিই আমাকে খুঁজে বের করেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা হওয়ার পর জেনেছি, আমার অনেক কাজই তাঁর দেখা। যাঁরা প্রমাণিত বা অতীতে ভালো চরিত্র করেছেন তাঁদের জন্যই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রগুলো রাখা হয়, তাঁদেরই বারবার কাস্ট করা হয়। শুনেছি সৃজিতের কাছে অনেকেই অনেকের নাম প্রস্তাব করেছেন, কিন্তু সৃজিত শুরু থেকেই আমাকে পছন্দ করে রেখেছিলেন। অনলাইনে সৃজিতের সঙ্গে সাত মাস রিহার্সালও করলাম।’

কলকাতায় নামলেন ১১ ডিসেম্বর। সেদিনই প্রথম দেখা সৃজিত ও তাঁর টিমের সঙ্গে। পরদিন হয় লুক সেট। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে ছবি তোলা ও কস্টিউম ট্রায়াল। বাঁধন সেদিনই প্রথম জানতে পারেন, এই সিরিজে তাঁর সহশিল্পীর তালিকায় আছেন রাহুল বোস ও অঞ্জন দত্ত।

’শুটিং শুরুর আগে দুই দিন ভয়ে ভয়ে ছিলাম। কী হবে, কী করতে যাচ্ছি! সারাক্ষণ প্রশ্ন দুটি মাথায় ঘুরছিল। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হোটেলের লবিতে আমার সঙ্গে রিহার্সাল করেছে সৃজিত। হোটেলের লোকজন আমাকে মনে করেছে কোনো স্টুডেন্ট। কারণ সারাক্ষণ আমার সঙ্গে স্ক্রিপ্ট থাকত।’

নাজিম উদ্দিনের উপন্যাসের মুসকান জুবেরির চরিত্রটা বাঁধনের কাছে কেমন? ’সাধারণত মেয়েদের চরিত্রে খুব একটা শেড দেখানো হয় না। হয় আদর্শ নারী, না হয় কুটনি।

মাঝামাঝি কিছু নেই। এই চরিত্রটা নানা শেডের’—বললেন বাঁধন।

১৬ ডিসেম্বর বর্ধমানের দশঘোরায় একটি রাজবাড়িতে শুরু হয় শুটিং। সত্যজিৎ রায়ের ’ঘরে বাইরে’র শুটিংও হয়েছিল এই বাড়িতে। এটাকে মুসকান জুবেরির বাড়ি হিসেবে দেখানো হবে। বাঁধনের ৬০ শতাংশ শুটিং হয় এখানেই। রাহুল বোসের সঙ্গে প্রথম দেখা এই সেটেই। বাঁধন বলেন, ’তিনি গল্পের নিরুপম চরিত্র হয়েই সেটে এসেছেন, এতে আমার খুব সুবিধা হয়েছে। নিরুপমকে ডমিনেট করে মুসকান। রাহুল বোসকে সুপিরিয়র কিছু ভেবে বসে থাকলে তো শুটিং করতে পারতাম না। উনার সঙ্গে প্রথম শটেই হাততালি পেয়েছিলাম।’

বর্ধমানের পর শুটিং হয় কলকাতায়। অঞ্জন দত্ত থেকে শুরু করে অনেকেই যোগ দেন এখানে। তারপর চলে যেতে হলো সিকিমে। ’সিকিমের পার্টটা বেশ কঠিন ছিল। জিরো পয়েন্টে শুটিং। জায়গাটা অনেক উঁচুতে। সবার অক্সিজেন লেভেল কমে গিয়েছিল। ব্রিদিং সমস্যার কারণে ইউনিটের দুজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। অনেক প্রতিকূল পরিবেশে শুট হয় সেখানে।’

বাঁধন জানালেন, ঢাকায় ফেরার সময় তাঁকে সৃজিত বলেছেন, ’আমি হ্যাপি, তুমি আমাকে ভুল প্রমাণ করোনি।’

বাঁধন বলেন, ’আমাকে ডিল করা কঠিনই। সহজে সব কিছুতে মানিয়ে নেওয়ার মতো মানুষ আমি নই। সৃজিত সেটা দারুণভাবে সামলেছেন। আমরা দুজনই মুসকানের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছি। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের বই আগে পড়িনি। এই সময়ে এত সুন্দর থ্রিলার লিখছেন, আমি রীতিমতো হতভম্ব। উনার অন্য বইগুলোও এখন পড়তে শুরু করেছি।’

২০১৮ সালে রায়হান রাফির ’দহন’-এ চুক্তিবদ্ধ হয়ে এবং ছবিটি ছেড়ে দিয়ে দুইবারই আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বাঁধন। ’দহন’ ছাড়ার পর অনেকটাই আড়ালে চলে যান তিনি।

কোথায় ছিলেন, কী করেছেন, সবিস্তারে বললেন বাঁধন। তাঁর ক্যারিয়ার ও জীবনদর্শন আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। ’লাইভ ফ্রম ঢাকা’ খ্যাত পরিচালকের নাম ঠিক না হওয়া দ্বিতীয় সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। ’দহন’ ছাড়ার পরপরই এই সিনেমা আসে বাঁধনের জীবনে। ’সাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাকে কাস্ট করে ও ঝুঁকিটা নিয়েছে। ওর ছবিটা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে পারব। এটা নারীপ্রধান গল্প। সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার গল্প। দর্শকের মাথায় হাজার হাজার প্রশ্ন জাগাবে এই গল্প। জানি না ছবিটা কোথায় যাবে, কয়জন মানুষ দেখবে। ছবিটা আমাকে বুঝিয়েছে, তুমি স্বাধীন। তোমার যা অধিকার সেটা তোমাকেই আদায় করতে হবে। সাদের ছবির চরিত্রটা আমাকে এতভাবে প্রভাবিত করেছে যে অন্য কোনো কাজই করতে পারছিলাম না। গত তিন বছরে এর বাইরে শুধু সৃজিতের সিরিজটাই করলাম আর ফেমিকনের একটা বিজ্ঞাপনচিত্র’—বললেন বাঁধন।

সাদের নাম প্রকাশ না করা ছবিটি এ বছরই মুক্তি পাবে বলে জানালেন বাঁধন। এমন কী আছে ছবিটিতে, কী আছে বাঁধন অভিনীত চরিত্রে যে অভিনেত্রীর জীবনদর্শনই বদলে গেল?

’শুধু এটুকু বলি, অনেকগুলো মেয়ের চরিত্র আছে এখানে। ওখানে দর্শক আমাকে চিনবে না। ৩৭ বছর বয়সেও যে অভিনেত্রীরা এমন চরিত্র করতে পারেন সেটা অনেকের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে এই ছবি’—বললেন আত্মবিশ্বাসী বাঁধন।

বাংলাদেশের নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ আজমেরী হক বাঁধন একের পর এক ভালো ভালো কাজ করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি এরপর নাটক ছেড়ে

তিনি সিনেমাতেও গিয়েছেন এবং এরই মধ্যে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি এরপর সর্বশেষ তার সিনেমার কথা চলছে ওপার বাংলার বিখ্যাত নির্মাতা শ্রীজিৎ মুখার্জী এর সাথে। ক্যারিয়ারে অসংখ্য নাটক তিনি করেছেন এবং সেখানে তার সাবলীল অভিনয়ের প্রশংসা রেখেছে মানুষের কাছে

Check Also

সংবাদ পাঠিকাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন তাহসান

অভিনেতা, গায়ক তাহসান খান ও অভিনেত্রী মিথিলা ভালোবেসে সুখের সংসার সাজিয়েছিলেন। সেই সংসারের ইতি টানেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.